ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভিন্নমত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ২৬শে জুন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে 'ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।
তবে, আরাগচির এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করে বলেছিলেন যে হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতির পর প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে খামেনি আরও বলেছিলেন যে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন করতে পারেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জয়' দাবি করে বলেন, ট্রাম্প হামলার 'প্রভাব অতিরঞ্জিত' করছেন।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে 'ঐতিহাসিকভাবে সফল' বলে বর্ণনা করেন এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন।1 যুক্তরাষ্ট্রের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় খুবই শক্তিশালী 'বাঙ্কার-বিধ্বংসী' বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কোনো পরিকল্পনার কথা নাকচ করেছেন। ষষ্ঠ দফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা ইসরায়েলের হামলার কারণে ভেস্তে গিয়েছিল। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন করে সংলাপ শুরুর জন্য কোনো সম্মতি, আয়োজন কিংবা আলোচনা চলছে না।

0 Comments